যেই ৭ টি বই সবার জীবনে একবার হলেও পড়া উচিত

বই মানুষের মনকে একটা প্রশান্তি দেয়। এই প্রশান্তি হয়তো নানা কারণ বা অকারণেও হতে পারে। তবে সবচেয়ে ভালো বই কোনগুলো, যে বইগুলো জীবনে একবার হলেও পড়া উচিত বা আমার কোন বই গুলো অবশ্যই পড়া উচিত তা বিবেচনা করা বা নির্বাচন করা কষ্টসাধ্য একটা কাজ তো বটেই পাশাপাশি আমাদের সবার পড়ার রুচিও ভিন্ন।

তো অবশ্যই পড়া উচিত বা ক্লাসিক হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় এরকম বইয়ের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। সময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মন দ্বারা রচিত, তাদের সর্বজনীন থিম, চরিত্র, অভিজ্ঞতা, আবেগ এবং দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে যা আজও প্রাসঙ্গিক এরকম বইগুলো ই বছরের পর বছর পাঠকের মনে দাগ কেটে গিয়েছিল, যাচ্ছে এবং যাবে, নিজ থেকে কোনো কথা না বলেই। তাদের মধ্যে কিছু হল অত্যন্ত অনুপ্রেরণা, যা থেকে সাহিত্যের পুরো আধুনিক ঘরানাগুলি উদ্ভূত হয়েছিল।

আজ আমরা সেরকম ই ৭ টি বইয়ের কথা বলবো যেই বইগুলো সবার পড়া উচিত।

১. যদ্যপি আমার গুরু: ১৯৯৮ সালে প্রথম বই আকারে প্রকাশিত হয় যদ্যপি আমার গুরু বইটি। লেখক আহমদ ছফা তার শিক্ষাগুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবদন্তি জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সাথে তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথোপকথনের স্মৃতিচারণ করেছেন বইটিতে। বইটি পড়ার পর আপনার মনে অনূভূত হবে একজন ছাত্রের সাথে তার শিক্ষকের হওয়া কিছু অসাধারণ কথোপকথনের চিত্র।

২. The Art of War (দি আর্ট অব ওয়ার): খ্রিস্ট পূর্ব ৫০০ সালে রচিত চীনা সামরিক বাহিনীর সদস্য সান জু-র লেখা এই বইটি । দ্যা আর্ট অফ ওয়ার ১৩ টি অধ্যয়ে বিভক্ত। বইটিতে যুদ্ধ ক্ষেত্রের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বলা হয়েছে। হাজার বছর পরেও বইটি এখনো সামরিক কৌশল রপ্ত করার অন্যতম একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বইটি মানুষের জীবন যাপনের ধরন থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রেও একটি অনুপ্রেরণাদায়ক গ্রন্থ হিসেবে পাঠকের মনে জায়গা করে নিয়েছে।

৩. ভাইরে আপুরে: ২০১৯ এর বই মেলাতে প্রকাশিত শাব্বির আহসানের ফেসবুক পোস্টের সংকলন এই বইটি। জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক গাইডলাইন না পাওয়ায় অনেক পিছিয়ে পড়ি আমরা। লেখক এতো সুন্দর করে জিনিস গুলো তুলে ধরেছেন প্রতিটা পৃষ্ঠা পড়ার পর আপনি নিজেকে নিয়ে অন্যভাবে ভাবতে শুরু করবেন। জীবন কে নতুন ভাবে গড়ার একটা উদ্দীপনা তো বইটা আপনাকে দিবেই পাশাপাশি জীবন সম্পর্কে বলা হাজারো অজানা বিষয় আপনি জানতে পারবেন, আর বলবেন ইশশ! কেনো এতো দেরি করে পড়লাম এই বইটি।

৪. Wings of Fire (উইংস অব ফায়ার): ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালামের একটি আত্মজীবনী। এটি লিখেছেন ডঃ এ পি জে আবদুল কালাম এবং এআরউন তিওয়ারি। বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৯ সালে। এ পি জে আবদুল কালামের ছোট থেকে বেড়ে ওঠা, চেষ্টা, কষ্ট, ধৈর্য, ভাগ্য যা শেষ পর্যন্ত তাকে করেছেন অন্যতম সফল একজন ব্যক্তি। তার এই সফল জীবনের পিছনের গল্প গুলো তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। যা পড়ার সময় কখনো মনে হবে মন ভারি হয়ে উঠছে অজানা কোনো কারণে, আবার কখনো মনের অজান্তেই মুখে চলে আসবে আত্ন-তুষ্টির হাসি।

৫. The Alchemist (দ্য অ্যালকেমিস্ট): আমরা সবাই স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। ঠিক তেমনি দ্য অ্যালকেমিস্ট গল্পের Santiago কিভাবে তার স্বপ্ন পূরণ করলো এবং কিভাবে তার চলার পথে বাধা গুলো অতিক্রম করেছে তবুও থেমে যায় নি তা নিয়ে গল্পটি। জীবনে স্বপ্ন কে বাস্তবে রুপদান করার জন্য কিভাবে অচেনা কারোর সাথে কথা বলতে হয়, সত্যিকারের ভালবাসা আসলে কি, কীভাবে ভালবাসতে হয়, কীভাবে নিজের জীবন নিজে বদলে ফেলা সম্ভব, সুখি হতে চাইলে কি করতে হবে, জীবনে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কি এরকম সবগুলো প্রশ্নের উত্তর নিয়ে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত এই বই।

৬. গর্ভধারিনী: সমরেশ মজুমদারের লিখা এই গর্ভধারিনী উপন্যাসটি তিনজন মানব এবং একজন মানবীর বিপ্লবের উপলব্ধি, বিশ্বাস আর নির্মাণের একটি গল্প। জয়িতা,আনন্দ,সুদীপ আর কল্যান। চারজন চার রকম পরিবেশে বড় হয়েছে, প্রেসিডেন্সীতে পড়ার সময় পরস্পরে বন্ধু হয়ে উঠে। এই নিয়ে উপন্যাস টি, পড়ার সময় মাঝে মাঝে হারিয়ে যেতে হবে বইটির চরিত্রের মধ্যে। নিজেকে কখনো এর মাঝে তো কখনো ওর মাঝে পাবেন।

৭. The Diary of A Young Girl (ডায়েরি অব আনা ফ্রাঙ্ক): আনা ফ্র্যাঙ্কের ডায়েরি নামে পরিচিত এই বইটিতে আনা ফ্রাঙ্ক নেদারল্যান্ডসের নাৎসি দখলকালে তার পরিবারের সাথে দু’বছর আত্মগোপনের সময় লেখা প্রতিদিন কার রোজনামচা এই বইটি। কষ্টের মূহুর্তগুলোও যে কতটুকু সুন্দরভাবে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো অসাধারনভাবে প্রকাশ করা যায় তার অনন্য দৃষ্টান্ত এই বইটি।

বুক রিভিউ দেখুন

Leave a Reply