বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ | Be Smart With Muhammad

বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ হিশাম আল আওয়াদির লিখা এবং মাসুদ শরীফের অনুবাদিত একটি আত্মউন্নয়নমূলক বই। বইটিতে মূলত হযরত মুহাম্মদ (সা: ) শিশু-কিশোর এবং নবুয়ত প্রাপ্তির আগের জীবনে উপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বইটির নাম দেখেই আমাদের যা মনে হতে পারে, তা হলো আমরা কিভাবে হযরত মুহাম্মদ সা: কে অনুসরণ করে নিজেরা স্মার্টলি জীবনযাপন করতে পারি। লেখক এই দিকটিতে অনেক বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন এবং খুবই সুন্দর ও প্রাণবন্ত ভাবে তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

বইটি বর্তমান তরুণদের জন্য আদর্শ অনুকরণীয় একটি বই। জীবনে যারা বিশেষ কিছু হতে চান, এ বইটির ঘটনাগুলো আপনাকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করবে।
এ বইটি পড়ে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। তার মধ্য থেকে আমার সবচেয়ে প্রিয় পাঁচটি জিনিস আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

১. হযরত মুহাম্মদ সা: একজন মানুষও ছিলেন
পৃথিবীতে মানুষ যতটা নিখুঁত হতে পারে নিঃসন্দেহে রাসুল সা: তা ই ছিলেন। কিন্তু এটাও সত্য তিনি একজন মানুষও ছিলেন। তাই মানুষ হিসেবে অনেক সংকট ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তিনি আমাদের মতই, আমরা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি সেগুলোর মোকাবিলা করেছেন। নিঃসন্দেহে তিনি আমাদের ভালবাসা ও শ্রদ্ধার পাত্র। কিন্তু আমরা তাকে এমন সম্ভ্রম জাগানিয়া নিখুঁত মানুষ হিসেবে তুলে ধরি, যে আমাদের সময়ে তাকে অনুসরণ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। এ বইটি আমাকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে এবং অনুপ্রাণিত করেছে যে তরুণ হযরত মুহাম্মদ সা: অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তাই আমরাও চেষ্টা করলে সেগুলো থেকে উত্তরণ পেতে পারি।

২. মুহাম্মদ সা: আমাদের সবার জন্য অনুকরণীয় মানুষ
আমরা এপিজে আব্দুল কালাম, মাহাথির মোহাম্মদ, নেলসন ম্যান্ডেলা, বারাক ওবামা, আব্রাহাম লিংকন সহ নানা ব্যক্তির জীবন থেকে শিক্ষণীয় ও করণীয় অনেক কিছু পেয়ে থাকি। হিন্দু মুসলিম খ্রিষ্টান সবাই এমনটা করি এক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হয় না। এ বইটিতে হযরত মুহাম্মদ সা: কেও সেরকম সর্বজনীন অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

৩. হযরত মুহাম্মদ সা: সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য
আচ্ছা বলুন তো দেখি, রাসূল সা: দাদীর নাম কি? জানেন না তো! উনার দাদীর নাম ফাতিমা আমর। এরকম জানা-অজানা অনেক দুর্লভ তথ্য পাবেন রাসূল সম্পর্কে মূলত উনার শিশু-কিশোর এবং তরুণ জীবন সম্পর্কে।

৪. আমরা প্রযুক্তিতে কেন পিছিয়ে আছি
আমরা যদি তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার কথা চিন্তা করি তখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের বেশিরভাগ অবদানই ছিল মুসলিম মনীষীদের। কিন্তু আজ আমরা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে। কেন পিছিয়ে আছি সেটা হয়তো অনেক বড় গবেষনার বিষয়। কিন্তু আমরা কি কখনো হযরত মুহাম্মদ সা: পুরো জীবনী পড়ে তা জানার চেষ্টা করেছি। রাসুল এর পুরো জীবনী আমাদের জন্য একটি আদর্শ। আমরা দেশ পরিচালনা, সমাজব্যবস্থা পরিচালনা, অর্থনীতি সকল বিষযয়েই কিন্তু তাকে আদর্শ হিসেবে নিতে পারি।

৫. নেতা হিসেবে রাসূল সা:
যুদ্ধ ও শান্তি সময়ে রাসুল নেতা হিসেবে কেমন ছিলেন, কিভাবে তিনি কোন লোকের ব্যক্তিত্ব ও সংস্কৃতি অনুযায়ী তার সাথে আচরণ করেছেন এগুলো আপনাকে অনেক অনুপ্রাণিত করবে। পরিবার, কর্মক্ষেত্র বা যে কোন দায়িত্বে নেতৃত্ব দিতে। বইটি পাঠক কে রাসুলের কাছাকাছি নিয়ে অনেক অনুপ্রেরণা যোগাবে।

Leave a Reply