কোন বইগুলো দিয়ে বই পড়ার অভ্যাস শুরু করবো

বই পড়া অসাধারণ একটা কাজ। আমরা যেমন ক্ষুধা লাগলে খাবার খাই আর যথাসময়ে খাবার না খেলে অসুস্থ হয়ে পড়ার অনেক সম্ভাবনা থাকে ঠিক তেমনি বই আপনার মনের ক্ষুধা মিটিয়ে থাকে। তাই আপনি যদি আপনার এই মনের ক্ষুধার যোগান না দিয়ে থাকেন তাহলে হয়ত আপনার মনও যেকোনো সময় অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এই বই পড়ার অভ্যাস শুরু করব কিভাবে?


যাদের বই পড়ার অভ্যাস একদমই নেই তাদের বই পড়াটা শুরু করা উচিত এমন কিছু বই দিয়ে যেগুলো তাদের আগ্রহ ধরে রাখতে অনেক সহায়তা করবে। যেমন আপনি যদি থ্রিলার পছন্দ করেন তাহলে আপনার উচিত থ্রিলার কোন বই দিয়ে শুরু করা। আপনার কাছে যদি রোমান্টিক উপন্যাস বা রোমান্টিক গল্প গুলো ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার উচিত সেগুলো দিয়ে শুরু করা। আমরা অনেকেই আছি আত্মউন্নয়নমূলক বই গুলো পড়তে ভালোবাসি সে ক্ষেত্রে আপনার উচিত সেরকম বই দিয়েই বই পড়া শুরু করা। মোটকথা, আপনারা যেগুলোতে ইন্টারেস্ট আছে সেরকম বই পড়া।


কিন্তু আমরা সবাই, ছোটগল্প জাতীয় অর্থাৎ শর্ট স্টোরি পড়তে অনেক ভালোবাসি তো সে ক্ষেত্রে আপনার যদি সেরকম কোনো পছন্দ না থেকে থাকে তাহলে আপনার উচিত এরকম ছোটগল্প জাতীয় বই দিয়ে শুরু করা। তো এই আর্টিকেলটিতে আমরা তুলে ধরব এরকম কিছু বই যেগুলো দিয়ে আপনি বই পড়া শুরু করতে পারেন।


১. টুকুনজিল: এই তালিকায় প্রথমেই আছে মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের সায়েন্স ফিকশন বই টুকুনজিল। এটি একটি শিশুতোষ সায়েন্স ফিকশন বই হলেও সববয়সী পাঠক এ বইটি পড়ে অনেক আত্মতুষ্টি পাবেন। বইটি পড়তে গেলে একবারের জন্যও ইন্টারেস্ট চলে যাবে না। এই বইয়ের প্রতিটি লাইন আপনাকে পরবর্তী লাইন করার জন্য কৌতুহলী করে তুলবে। এ বইটির মূল চরিত্র বিলু। বিলুর মা-বাবা গরীব হলেও বিলু অত্যন্ত মেধাবী। বিলু যখন ঢাকায় চলে যায় তখন তার শহর জীবন এবং তার পরবর্তী কাহিনী গুলো নিয়েই বইটি রচিত। আপনি যদি বইটি এখনো পড়ে না থাকেন তাহলে এখনি অর্ডার করে ফেলুন।


২. ভাইরে আপুরে: ভাইরে আপুরে বইটি শাব্বির আহসানের সাব্বির আহসানের প্রথম বই। বইটির দ্বিতীয় সিক্যুয়াল ভাইরে আপুরে টু ও বের হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি তরুণের উচিত এই বইটি একবারের জন্য হলেও পড়া। বইটিতে সাবেক সেনাবাহিনীর সদস্য বর্তমানে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের পরামর্শক শাব্বির আহসান তার জীবন থেকে শেখা এবং বর্তমানে শিখছে এরকম শখানেক পোস্ট রয়েছে যেগুলোর প্রতিটি আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে, নতুন আইডিয়া দিবে, নতুন করে জীবন সম্পর্কে ভাবতে শেখাবে এবং নতুন অনেক অজানার জানান দেবে। আপনি চাইলে লেখক কে ফেসবুকেও ফলো করতে পারেন।


৩. মিসির আলি সমগ্র: হুমায়ূন আহমেদের অত্যন্ত জনপ্রিয় মিসির আলি সিরিজের সংকলন নিয়ে বইটি। লেখক এর সবচেয়ে জনপ্রিয় অনেকগুলো ছোটগল্পের দেখা মিলবে অসাধারণ এই বইটিতে। বইটি দেখতে মোটাসোটা হলেও, বইটিতে রয়েছে অনেকগুলো গল্পের বাহার তাই বিরক্ত লাগা তো দূরের কথা একবার পড়তে বসলে খাওয়া-দাওয়ার কথাও ভুলে যেতে পারেন। তাই পরামর্শ রইল, পড়ার সময় হালকা খাবার নিয়ে বসার জন্য।


৪. গাভী বিত্তান্ত: বাংলা সাহিত্যের সাথে যে কয়টি বিপ্লবী নাম চলে আসে তারমধ্যে আহমদ ছফা অন্যতম। তার লেখা গাভী বিত্তান্ত বাংলা ভাষা-ভাষীতে তো বটেই বিশ্ব সাহিত্যেও অনন্য এক সৃষ্টি। বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠের একজন অযোগ্য ব্যাক্তির উপাচার্য হওয়া এবং তার এই উপাচার্য জীবনে ঘটে যাওয়া কাহিনিগুলোর প্রকাশ ঘটেছে এই উপন্যাসটিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎপত্তি যেখানে ঘটেছে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা করার জন্য সেখানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র থেকে শুরু করে শিক্ষক-কর্মচারী পর্যন্ত প্রতিটি স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শোভা পায় না এরকম অহরহ কাজ ঘটে যাচ্ছে। এই বিষয়গুলোই বইটিতে অত্যন্ত মজাদার ভাবে তুলে ধরেছেন লেখক।


৫. নিশীথ রাতের বাদল ধারা: নিশীথ রাতের বাদল ধারা বইটি লিখেছেন শানজানা আলম। এই বইটি ২০২০ সালের বইমেলাতে প্রকাশিত হয়। বইটিতে রয়েছে পাঁচটি বড় গল্পের সংকলন। প্রতিটি গল্প আপনাকে আলাদা স্বাদ দিবে। প্রথম গল্পটি একটি কিশোরীর গল্প, দ্বিতীয় গল্পটি একটি কিশোরের আত্ম উপলব্ধির গল্প, তৃতীয় গল্পটির নাম চৈতালি প্রণয়ন, চতুর্থ গল্পটি এক বন্দিনীর গল্প, পঞ্চম গল্পটিতে উঠে এসেছে জীবনের রূঢ় বাস্তবতার এক অসাধারণ গল্প। প্রতিটি গল্প আপনাকে দুঃখ, আনন্দ, হতাশা এবং আশার এক স্রোতে ভাসাবে।

Leave a Reply